আমিই একমাত্র পুরুষ যাহাকে বিবাহ আসর হইতে ফিরাইয়া দিয়াছে

আমিই একমাত্র পুরুষ যাহাকে বিবাহ আসর হইতে ফিরাইয়া দিয়াছে

বাংলাদেশের মধ্যে আমিই একমাত্র পুুরুষ যাহাকে কন্যার বাপ বিবাহ আসর হইতে নিজে ফিরাইয়া দিয়েছে বলতে অপরিচিতা গল্পে অনুপমের আক্ষেপ ও অসহায়ত্বকে বোঝানো হয়েছে। অপরিচিতা গল্পের নায়ক হলেন অনুপম এবং নায়িকা হলেন কল্যাণী। অনুপমের বয়স যখন অল্প তখন তার পিতা মারা যান। তারপর থেকে মায়ের হাতেই সে মানুষ। মায়ের আদেশ মেনে চলতেই সে অভ্যস্ত। অনুপমের পিতা মারা যাবার পর থেকে তার পরিবারের অভিভাবক হলেন তার মামা। অনুপমের মামা শোষণ ও শাসন দুটোই ভালো বোঝেন। তিনি আত্মীয়তাও রাখতে চান অথচ তাকে যথাযথ সম্মান দিতে চান না।

আরো পড়ুন: অনুপমের মামার ধনীর কন্যা পছন্দ নয় কেন

তিনি তার ভাগ্নের জন্য এমন ঘরের মেয়ে চান, যার টাকা নেই অথচ টাকা দিতে কসুর করবে না। সে রকম একটা কন্যার সন্ধান দেন অনুপমের বন্ধু হরিশ। হরিশ কানপুরে কাজ করে। হরিশ আসর জমাইতে অদ্বিতীয়। সে জন্য হরিশকে অনুপমের মামা ভালোবাসেন। একদিন কথা উঠল অনুপমের বিয়ের ব্যাপারে। তখন হরিশ বলল পাত্রী যদি চান তাহলে ভালো পাত্রীর সন্ধ্যান আছে। মামা যেমন অনুপমের জন্য পাত্রী চান পাত্রী সেরকম। অনুপমের মামার ধনীর কন্যা পছন্দ নয়।

কন্যার পিতার নাম শম্ভুনাথ সেন। বিয়ের দিন অনুপমের মামা গহনা পরিক্ষা করতে সাথে করে সেকরাকে নিয়ে যান। বিয়ের আসরে অনুপমের মামা গহনা পরিক্ষা করে দেখে নিতে চান কারণ তিনি কারো কাছে কোনো মতে ঠকিতে চান না। কিন্তু অনুপম চুপচাপ শুধু দেখে যায়। কন্যার পিতা অনুপমকে জিজ্ঞেস করে, তোমার মামা গহনা পরিক্ষা করতে চাই। সেখানে তোমার কোনো মতামত আছে। অনুপম বলে না আমার কোনো মতমত নেই। তখন শম্ভুনাথ সেন বরপক্ষ-কে খাইয়ে-দাইয়ে বিয়ের আসর থেকে ফিরাইয়া দেয়। বাংলাদেশে বিয়েতে প্রায়শই দেখা যায় যে, প্রতিশ্রুতি ও প্রদত্ত যৌতুকের অসংগতির কারণে বরের পিতা বিয়েতে অসম্মতি জানায়। কিন্তু অপরিচিতা গল্পে অনুপমের ক্ষেত্রে এর বিপরীত ঘটনা ঘটেছে।

যৌতুক গ্রহণের প্রবণতা, লোভ এবং হীন মানসিকতার পরিচয় পেয়ে শম্ভুনাথ সেন বরের মামাকে আশীর্বাদের এয়ারিং ফিরিয়ে দেয়। তারপর বরযাত্রীদের খাইয়ে বিয়ের ব্যবস্থা না করে তাদের গাড়ি ডেকে দেন। এতে অনুপমের মনে হয়েছে শম্ভুনাথ যেন বর অনুপমকেই বিয়ের আসর থেকে ফিরিয়ে দিয়েছেন। আলোচ্য অংশে অনুপমের এই অসহায় অবস্থাকে তুলে ধরা হয়েছে।