বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে ভাবসম্প্রসারণ

বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে ভাবসম্প্রসারণ

মূলভাব: সৌন্দর্য মোটেই নিরপেক্ষ নয়। স্থান-কাল-পাত্রের ওপর সৌন্দর্যের পূর্ণতা নির্ভর করে।

সম্প্রসারিতভাব: যে জিনিস যে স্থানে থাকা উচিত, সেখানে থাকলে শুধু যে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হয় তা নয়, দেখতে সুন্দরও লাগে। যথার্থ স্থানেই বস্তুর স্বাভাবিক বিকাশ হয়। অবস্থানে, কৃত্রিমভাবে যতই তাকে পরিচর্যা করা হোক তার স্বাভাবিক বিকাশ ও বৃদ্ধি ঘটবে না। পাখিকে যতই সোনার খাঁচায় রেখে বুলি শেখানো হোক, সেটা পাখির জন্য কারাগার, মানুষের জন্যও অসুন্দর। তেমনি, মায়ের কোলে একটি শিশু যেমন ফুলের মতো স্বাভাবিক, অন্যের কোলে তেমন নয়। ফুল যতক্ষণ গাছের ডালে প্রস্ফুটিত, ততক্ষণ তার মধ্যে স্বর্গীয় সৌন্দর্য থাকে, কিন্তু বোঁটা থেকে ছিঁড়লে ফুলের সেই স্বাভাবিক সৌন্দর্য আর থাকে না। এ জন্য বলা হয়, যার যে স্থান, তাকে সে স্থানে থাকতে দাও। যার যে কাজ, তাকে সে কাজ করতে দাও। তাকে স্থানান্তর করলে সৌন্দর্যের অবলুপ্তি ঘটে।

মন্তব্য: স্বাভাবিক বস্তুর স্বাভাবিক বিকাশ ঘটে। তাকে স্থানান্তর করলে পরিবেশের ভারসাম্য যেমন নষ্ট হয়, তেমনি সৌন্দর্যের হানি ঘটে।

বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে ভাবসম্প্রসারণ ক্লাস ৬

মূলভাব: প্রত্যেক প্রাণী ও মানুষের জন্য তার স্বাভাবিক ও আপন পরিবেশই সবচেয়ে সুন্দর ও নিরাপদ।

সম্প্রসারিতভাব: প্রকৃতির নিয়মে প্রত্যেক প্রাণীরই নিজস্ব পরিবেশে সৌন্দর্য ও স্বাচ্ছন্দ্য প্রকাশ পায়। বন্য প্রাণীরা বনে থাকলেই তাদের স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে। তেমনি শিশুরাও মায়ের কোলে সবচেয়ে বেশি নিরাপদ, শান্তি ও আনন্দ অনুভব করে। মায়ের স্নেহ, মমতা ও ভালোবাসায় শিশুর মন আনন্দে ভরে ওঠে। মায়ের কোলে শিশু নিজেকে সবচেয়ে নিরাপদ মনে করে। মায়ের কণ্ঠস্বর ও স্নেহের পরশ শিশুর মনে শান্তি এনে দেয়। মায়ের ভালোবাসার তুলনা পৃথিবীর অন্য কোনো ভালোবাসার সঙ্গে করা যায় না। তাই বন্য প্রাণী যেমন বনে সুন্দর, তেমনি শিশুরাও মায়ের কোলে সুন্দর ও সুখী।

আরো পড়ুন: শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড ভাবসম্প্রসারণ

মন্তব্য: বন্যেরা বনে সুন্দর শিশুরা মাতৃক্রোড়ে; এই ভাবসম্প্রসারণের মূল শিক্ষা হলো প্রত্যেক প্রাণী ও মানুষের জন্য তার নিজস্ব পরিবেশই সবচেয়ে সুন্দর ও নিরাপদ।

বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে ভাবসম্প্রসারণ ক্লাস ৭

মূলভাব: সৌন্দর্য সর্বত্র বিকশিত হয় না। প্রাকৃতিক নিয়মে যার যথা স্থান সেখানেই সৌন্দর্য ফুটে উঠে।

সম্প্রসারিতভাব: সুন্দর শব্দটি অনির্দিষ্ট। সৌন্দর্যের প্রতি প্রকৃতি স্থান-কাল পাত্র ভেদে ভিন্নতর হয়। আমাদের দেশে প্রবাদে আছে, যার যথা স্থান সে অনুযায়ী তার সৌন্দর্য বিকশিত। প্রত্যেকেরই একটি নিজস্ব পরিবেশ আছে। বন্যদের স্বাভাবিক সৌন্দর্য নগরকেনন্দ্রিক যান্ত্রিক সভ্যতার অভিঘাতে মূর্ত হয়ে উঠে না। বনের মুক্ত বিহঙ্গকে সোনার খাঁচায় ধরে রাখলেও অস্বাভাবিক মনে হয়। সুন্দর বনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার চিড়িয়াখানায় লেগেই তার স্বাভাবিক সৌন্দর্য হারিয়ে শ্রীহীন হয়ে পড়ে। বনই এদের যথার্থ স্থান মনীষী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব বলেন, মানব শিশুর সুন্দরতম স্থান মাতৃক্রোড়ে। অন্যের কোলে শিশুর স্বাভাবিক সৌন্দর্য হারিয়ে যায়। ইংরেজ কবি বলেছেন, ”Beauty is truth, truth is beauty” সত্যই সুন্দর বিধায় যাকে যেখানে রাখলে স্বাভাবিক স্বতঃবিকাশ ঘটে সেখানেই সত্য সুন্দর রূপে ভাস্কর হয়ে ওঠে।

মন্তব্য: আপন পরিবেশই সৌন্দর্যের নিয়ামক। যার যে পরিবেশ তাকে সে পরিবেশেই মানায়।

বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে ভাবসম্প্রসারণ ক্লাস ৮

মূলভাব: প্রত্যেক প্রাণী ও মানুষের স্বাভাবিক বিকাশের জন্য নিজস্ব পরিবেশ প্রয়োজন। বন্য প্রানীর জন্য যেমন বন হলো নিরাপদ আবাসস্থল, তেমনি শিশুর জন্য মায়ের কোল হলো সবচেয়ে নিরাপদ স্থান।

সম্প্রসারিতভাব: সৃষ্টির প্রতিটি প্রানীর জন্য প্রকৃতি একটি নির্দিষ্ট পরিবেশ নির্ধারণ করে দিয়েছে। যেমন বন্য প্রাণীর স্বাভাবিক আবাসস্থল হলো বন। বনের মুক্ত পরিবেশে তারা চলাফেরা করে, খাদ্য সংগ্রহ করে এবং নিজেদের মন মতো জীবনযাপন করে। বন থেকে কোনো বন্য প্রাণীকে ধরে এনে খাঁচায় বন্দি করলে তার স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হয়। ফলে তার স্বাভাবিক সৌন্দর্য ও প্রাণচাঞ্চল্যও অনেকাংশে হারিয়ে যায়। তাই বন্য প্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল হলো বন।

আরো পড়ুন: পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি ভাবসম্প্রসারণ

একই ভাবে একটি শিশুর সবচেয়ে নিরাপদ স্থান হলো তার মায়ের কোল। একটি শিশু মায়ের কোলো যতটা নিরাপদ থাকবে অন্য কোথাও গিয়ে সেই শিশু নিরাপদ থাকতে পারবে না। তাই শিশুর সুন্দর ও স্বাভাবিক বিকাশের জন্য মায়ের স্নেহময় পরিবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মন্তব্য: বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে এই উক্তির মাধ্যমে আমাদের শেখায় যে, প্রত্যেক প্রাণী তার নিজস্ব পরিবেশে সবচেয়ে সুন্দর ও স্বাভাবিক ভাবে জীবনযাপন করতে পারে। তাই বন্য প্রাণীর স্বাধীনতা রক্ষা করা এবং শিশুদের মায়ের স্নেহ, ভালোবাসা ও নিরাপদ পারিবারিক পরিবেশে বড় হওয়ার সুযোগ দেওয়া আমাদের দায়িত্ব।

বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে ভাবসম্প্রসারণ ক্লাস ৯

মূলভাব: প্রকৃতির রাজ্যে সকলের জন্য সুনির্দিষ্ট স্থান রয়েছে। প্রকৃতি যাকে যেখানে রেখেছে, যার যা দায়িত্ব নির্দিষ্ট করেছে প্রত্যেকের উচিত সে স্থানে থেকে সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব পালন করা।

সম্প্রসারিতভাব: যার যে পরিবেশ তাকে সেই পরিবেশেই যথার্থ মানায়। প্রত্যেকে নিজ বৈশিষ্ট্য আর নিজস্ব পরিবেশেই সঠিকভাবে রূপায়িত হয়ে উঠে। বনের অধিবাসীরা বনে বাস করে; তারা বন্য জীবনাচরণে অভ্যস্ত। বন্যেরা প্রকৃতির মধ্যেই সুন্দর মানায়। যদি তাদের বন থেকে সরিয়ে এনে লোকসমাজে প্রতিষ্ঠিত করা হয় তবে তাদের মোটেই মানাবে না। পশু-পাখি বনে বসবাসে অভ্যস্ত। তাদেরকে বনেই সুন্দর দেখায় এবং বনের পরিবেশ সুন্দর করে। তাদের লোকালয়ে আনলে তাদের জীবন বিপন্ন হয়ে পড়ে। তেমনি মায়ের কোলে শিশুকে যেমন সুন্দর লাগে অন্য কারো কোলে শিশুকে তত সুন্দর মানায় না।

আরো পড়ুন: চরিত্র মানুষের অমূল্য সম্পদ ভাবসম্প্রসারণ

কারণ মা ছাড়া অন্যের কোলে শিশুর স্বাভাবিক সৌন্দর্য ও সরলতা বিকশিত হতে পারে না। এটাই জাগতিক নিয়ম। কথায় আছে, যে যেখানে আছে তাকে সেখানেই থাকতে দাও। তবেই তাদের স্বাভাবিক সৌন্দর্য বিকশিত হবে। তেমনি সমাজিক জীবনে যার যেখানে থাকবার কথা অথবা যার যা দায়িত্ব তার তাতেই নিবিষ্ট থাকা উচিত। রাজনীতিকের কাজ রাষ্ট্র পরিচালনা, কিন্তু রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব যদি সেনাবাহিনী নেয় তাহলে রাষ্ট্রের স্বাভাবিক বিকাশ ও সৌন্দর্য নষ্ট হয়। সেনাবাহিনীর কাজ দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা। শিক্ষকের কাজ পাঠদান করানো, শিক্ষার্থীর কাজ শিক্ষা গ্রহণ করা। জীবনের স্বাভাবিক বিকাশ ও সমাজের সুষম উন্নতির জন্যই এ সঙ্গতি রক্ষা করা প্রয়োজন।

মন্তব্য: বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে এই উক্তিটি যথার্থ।