চরিত্র মানুষের অমূল্য সম্পদ ভাবসম্প্রসারণ Class 6,7,8,9,10

চরিত্র মানুষের অমূল্য সম্পদ ভাবসম্প্রসারণ Class 6,7,8,9,10

মূলভাব: চরিত্রের গুণেই মানুষ মর্যাদাবান হয়ে ওঠে। চরিত্রহীন ব্যক্তিকে সবাই ঘৃণা করে। চরিত্র মানবজীবনের মুকুটস্বরূপ।

সম্প্রসারিতভাব: মানুষের সামগ্রিক আচরণের সমষ্টিই তার চরিত্র। একজন মানুষ কতটা ভালো বা কতটা মন্দ তা শনাক্ত করা হয় তার সামগ্রিক চরিত্র দিয়েই। স্বকীয় চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের গুণে মানুষ মর্যাদা লাভ করে, সমাদৃত হয়। চরিত্র ব্যক্তির অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্য। নারীদের ক্ষেত্রে অলংকার যেমন তার রূপের মাধুর্যকে বাড়িয়ে দেয়, তেমনি ব্যক্তির আচার-আচরণ, কথাবার্তা, রুচি, জ্ঞান ও বুদ্ধি, সততা, ন্যায়নিষ্ঠা ইত্যাদি তার চরিত্রের অমূল্য সম্পদ। সুন্দর ও শোভন চরিত্রের মানুষকে সবাই শ্রদ্ধা করে, ভালোবাসে, মর্যাদা দেয়। অপরদিকে চরিত্রহীন ব্যক্তিকে কেউ বিশ্বাস করে না, মর্যাদাও দেয় না। লক্ষ টাকার সম্পদ নষ্ট হলেও তা আবার ফিরে পাওয়া সম্ভব, কিন্তু চরিত্র একবার নষ্ট হলে তা কোটি টাকার বিনিময়েও ফেরত পাওয়া সম্ভব নয়। এ জন্য চরিত্রকে অমূল্য সম্পদের সঙ্গে তুলনা করা হয়।

মন্তব্য: পার্থিব ধন সম্পদের চেয়ে চরিত্রের মূল্য অনেক বেশি। মানবজীবনে চরিত্রের মতো বড় অলংকার আর কিছু নেই। চরিত্রকে তাই মাথার মুকুটের সঙ্গে তুলনা করা হয়।

চরিত্র মানুষের অমূল্য সম্পদ ভাবসম্প্রসারণ Class 6

মূলভাব: মানবজীবনের চরিত্র মুকুটস্বরূপ। চরিত্রবান ব্যক্তিকে সবাই শ্রদ্ধা করে। চরিত্রহীন মানুষকে সকলে ঘৃণা করে। চরিত্রহীন ব্যক্তির মানুষ হিসেবে কোনো মূল্য নেই।

সম্প্রসারিত ভাব: চারিত্রিক গুণাবলির মধ্য দিয়ে মানুষের জীবনের মহিমা প্রকাশ পায়। চরিত্রবান ব্যক্তি কতকগুলো গুণের অধিকারী হন। সৎ, বিনয়ী, উদার, নম্র, ভদ্র, রুচিশীল, ন্যায়পরায়ণ, সত্যবাদী, নির্লোভ, পরোপকারী ইত্যাদি গুণ চরিত্রবান ব্যক্তিকে মহত্ব দান করে। এসব গুণ যদি একজন মানুষের মধ্যে না থাকে, তাহলে সে পশুরও অধম বলে বিবেচিত হয়। চরিত্রবান ব্যক্তি তাঁর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের গুণে সমাজে ও জীবনে শ্রদ্ধাভাজন ও সমাদৃত হয়। অন্যদিকে চরিত্রহীন ব্যক্তিকে কেউ ভালোবাসার দৃষ্টিতে দেখে না, বরং ঘৃণা করে। চরিত্রবান ব্যক্তি জাগতিক মায়া-মোহ-লোভ-লালসার বন্ধনকে ছিন্ন করে লাভ করেন অপরিসীম শ্রদ্ধা ও অফুরন্ত সম্মান।

আরো পড়ুন: বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে ভাবসম্প্রসারণ

মন্তব্য: অর্থ-বিত্ত-গাড়ি-বাড়ি প্রভৃতির চেয়ে চরিত্র অনেক বড় সম্পদ। আর এ মর্যাদা অর্থমূল্যে নয়, মানবিক ও নৈতিক পবিত্রতার মানদণ্ডে বিচার করতে হয়। সকলেরই উচিত চরিত্রবান হওয়ার সাধনা করা।

চরিত্র মানুষের অমূল্য সম্পদ ভাবসম্প্রসারণ Class 7

মূলভাব: মানুষের সব সম্পদের মধ্যে চরিত্রই বড় সম্পদ। উত্তম চরিত্রের লোক সর্বত্র সম্মান পেয়ে থাকে। পক্ষান্তরে চরিত্রহীন ব্যক্তি অজস্র ধন সম্পদের অধিকারী হলেও সকলের ঘৃণার পাত্র।

সম্প্রসারিত ভাব: অলংকার নারীদেহের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে থাকে। দেহের শ্রী বৃদ্ধিতে অলংকারের গুরুত্ব অপরসীম। চরিত্র মানবের মহার্ঘতম বস্তু, শ্রেষ্ঠতম অলংকার। চরিত্রবান ব্যক্তি সমাজের শিখা স্বরূপ। চরিত্র মানুষকে ন্যায়, সত্য, সংযম ও শ্রদ্ধাবোধ শিক্ষা দেয় এবং সৎপথে চলতে উদ্বুদ্ধ করে। চরিত্রহীন ব্যক্তি নির্গন্ধ স্বরূপ পুষ্পের মতো। কেউ তাকে সম্মান করে না। চরিত্র গৌরবে গরীয়ান মানুষ দেবতার মহিমায় পৃথিবীতে বিরাজ করে। সকল সম্পদ অপেক্ষা চরিত্র মহিমা অধিক মূল্যবান।

আরো পড়ুন: পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি ভাবসম্প্রসারণ

চরিত্রবান ব্যক্তি সম্পদে দীন হলেও গৌরবে মহান। সকলেই তাকে শ্রদ্ধা ভক্তি করে। কথায় আছে, রাজার জোর অর্থের আর চরিত্রবান ব্যক্তির জোর হৃদয়ের। হৃদয়িক মহিমায় উজ্জ্বল চরিত্রবান ব্যক্তি সদালাপী, বিনয়ী ও জ্ঞানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। চরিত্রবান ব্যক্তি অনমনীয় মহীরুহের ন্যায় অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপষহীন। চরিত্রবান ব্যক্তি মহাপুরুষরূপে সমাজে সমাদৃত। চরিত্রহীন ব্যক্তি পশু সদৃশ।

মন্তব্য: মানুষের প্রকৃত পরিচয় তার চরিত্রে। চরিত্র বলেই মানুষ সুন্দর ও সার্থক হয়ে ওঠে। এটি মানব জীবনের এক অমূল্য সম্পদ।

চরিত্র মানুষের অমূল্য সম্পদ ভাবসম্প্রসারণ Class 8

মূলভাব: মানুষের প্রকৃত পরিচয় তার ধন সম্পদ বা বাহ্যিক সৌন্দর্যে নয়, তার চরিত্রে। সৎ, নীতিবান ও আদর্শবান চরিত্রই মানুষের সবচেয়ে বড় সম্পদ।

আরো পড়ুন: শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড ভাবসম্প্রসারণ

সম্প্রসারিত ভাব: চরিত্র একজন মানুষের জীবনে সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। এই সম্পদ একবার হারিয়ে গেলে আর ফিরে পাওয়া যায় না। ধন, সম্পদ কিংবা অর্থ হারিয়ে গেলে তা আবার ফিরে পাওয়া সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু চরিত্র একবার হারিয়ে গেলে তা আর ফিরে পাওয়া যায় না। একজন চরিত্রবান ব্যক্তি অন্যায় থেকে দূরে থাকে, পরের উপকার করে এবং নিজের দায়িত্ব যথাথথ পালন করে। তাই চরিত্রবান মানুষকে সবাই শ্রদ্ধা ও বিশ্বাস করে। তাই আমাদের ছাত্র জীবন থেকেই চরিত্র গঠনের চেষ্টা করা উচিত। চরিত্রবান মানুষ নিজের পরিবার, সমাজ ও দেশের কল্যাণে ভূমিকা পালন করে। তাই বলা যায় চরিত্র মানুষের অমূল্য সম্পদ।

মন্তব্য: জীবনে প্রকৃত সাফল্য অর্জন করতে হলে অর্থ-সম্পদের পাশাপাশি সুন্দর চরিত্র গঠন করা অপরিহার্য।

চরিত্র মানুষের অমূল্য সম্পদ ভাবসম্প্রসারণ Class 9

মূলভাব: মানবজীবনে উত্তম চরিত্রের চেয়ে মূল্যবান কোনো সম্পদ নেই। মূলত চারিত্রিক বিচারেই একজন মানুষ ভালো কিংবা মন্দ বলে বিবেচিত হয়।

সম্প্রসারিত ভাব: চরিত্র মানুষের সবচেয়ে বড় সম্পদ। চরিত্রবান ব্যক্তি স্বকীয় চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের গুণে সমাজে শ্রদ্ধাভাজন ও সমাদৃত হয়ে থাকেন। চরিত্র মানুষকে সুশোভিত করে। মানুষ তার শারীরিক সৌন্দর্য আরও আকর্ষণীয় ও মধুময় করতে সুন্দর পোশাক ও অলংকার ব্যবহার করে। মানবজীবনের শ্রেষ্ঠ অপরিহার্য উপাদান হচ্ছে স্বাথ্য, অর্থ এবং বিদ্যা। জীবনে এগুলোর যতই অবদান থাক না কেন, এককভাবে এগুলোর কোনোটিই মানুষকে সর্বোত্তম মানুষে পরিণত করতে সক্ষম নয়। কথায় আছে, সম্পদ হারালে কোনো কিছু ক্ষতি হয় না, স্বাস্থ্য হারালে কিছুটা ক্ষতি হয়; কিন্তু চরিত্র হারালে কিছুই অবশিষ্ট থাকে না।

যার পরশে জীবন ঐশ্বর্যমণ্ডিত হয় এবং যার বদৌলতে মানুষ জনসমাজে শ্রদ্ধা ও সম্মানের পাত্র হিসেবে আদৃত হয়ে থাকে, তা চরিত্র ছাড়া অন্য কিছুই নয়। নামমাত্র নৈতিকতা বা ন্যায়নিষ্ঠতাই চরিত্র নয়, চরিত্রের মাঝে সমন্বয় ঘটাতে হয় মানুষের যাবতীয় মানবীয় গুণাবলি ও আদর্শের মাধ্যমে। চরিত্রবান ব্যক্তি জাগতিক মায়া-মোহ ও লোভ-লালসার বন্ধনকে ছিন্ন করে ন্যায় ও সত্য প্রতিষ্ঠায় অবিচল থাকেন। পার্থিব সম্পদ মানুষের সচ্ছলতা ও প্রতিপত্তি এনে দিলেও আত্মিক সৌন্দর্য এবং মানসিক ঔদার্যের জন্য চাই সুন্দর চরিত্র। চারিত্রিক গুণাবলির অভাব বা ক্রটি ঘটলে মানুষের গৌরব বলতে আর কিছুই অবশিষ্ট থাকে না। চরিত্রহীন লোককে সবাই ঘৃণা করে। সে কারণে যথার্থ মানুষ হওয়ার জন্য অবশ্যই চরিত্রবান মানুষ হতে হবে।

মন্তব্য: মানবজীবনে চরিত্রের মতো বড় অলংকার আর নেই। তাই বলা যায়, ”The crown and glory of life is character” অর্থাৎ চরিত্র মানবজীবনের মুকুটস্বরূপ।