জাতীয় পাখি দোয়েল রচনা ২০ পয়েন্ট

জাতীয় পাখি দোয়েল রচনা ২০ পয়েন্ট

ভূমিকা: চিরসবুজ আমাদের এ বাংলাদেশ চিরদিনই ধানের ও গানের দেশ। ভোরে পাখির গানেই আমাদের ঘুম ভাঙ্গে। প্রকৃতির উদার লীলানিকেতন এ বাংলার বনে-বাদাড়ে নাম জানা-অজানা হাজারো পাখির বাস। এদের মধ্যে দোয়েল একটি বিশিষ্ট নাম। এটি আমাদের জাতীয় পাখিও বটে। বসন্তে একটানা দোয়েলের মিষ্টি গান আমাদের মাতোয়ারা করে তোলে। এখানে-সেখানে, পুকুর পাড়ে, ঝোঁপের মাঝে লুকিয়ে বা উঠানের কোণে ছোট ডালিম গাছের ডালে বসে চাঁদনি রাতে দোয়েলের গান সবাইকে মুগ্ধ করে। বাংলাদেশের প্রাকৃতিক পরিবেশে দোয়েল সবচেয়ে মানানসই পাখি বলেই একে আমাদের জাতীয় পাখির মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।

আরো পড়ুন: জাতীয় ফুল শাপলা রচনা

আকৃতি: দোয়েল একটি ছোট পাখি। এটি আকারে ছয় ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা হয়। এর দুটি পা, দুটি পাখা, দুটি চোখ, দুটি কান ও দুুটি ঠোঁট আছে। দোয়েল একটি সুন্দর পাখি। এর মতো এত রূপের সমাবেশ অন্য পাখির মধ্যে সচরাচর দেখা যায় না। পুরুষ ও স্ত্রী ভেদে দোয়েল পাখির রঙে একটু প্রভেদ দেখা যায়। পুরুষ দোয়েলের গলা, মাথা, বুক ও পিঠ মিছমিছে কালো। তবে লম্বাটে সাদা সাদা দাগ আছে। লেজের পালকটি ছাড়া আর সবই সাদা। পক্ষান্তরে স্ত্রী দোয়েলের রং অনেকটা বাদমী ও ধূসর। এদের ঠোঁট কালো, লেজ শরীর থেকে অনেকটা লম্বা হয়।

বাসস্থান: দোয়েল কখনো গভীর জঙ্গলে অথবা একেবারে খোলামেলা জায়গায় বাস করে না। লোকালয়ের কাছাকাছি, বৈঠকখানা বা ঘরের পাশে উঠোনের কোণে ছোট্ট ঝোঁপ ঝাঁড়ে বাস করে।

আরো পড়ুন: গরুর রচনা

খাদ্যাভ্যাস: দোয়েল প্রায় বাগানবাড়ি বা ঘরের আশেপাশে খোলা জায়গায় ঘাসের উপর বিচরণ করে। ঘাসের উপর ছড়ানো শস্যকণা বা ছোট ছোট পোকা মাকড় খেয়ে এরা জীবন ধারণ করে। এরা ছোট পাখি বলে খুব কম খাদ্যই এদের প্রয়োজন হয়।

প্রকৃতি: বাংলা গানের পাখি এই দোয়েল। কিন্তু এরা সারা বছর গান করে না। শীতের শেষে বসন্তের আগমনে তারা গানের জন্য প্রস্তুত হয়। গান করার সময় এরা সাধারণত: নড়াচড়া করে না এবং একটানা অনেকক্ষণ ধরে গান করে। দোয়ের খুব শান্ত প্রকৃতির পাখি। কারো ক্ষতি করে না। দোয়েল সহজেই পোষ মানে। দোয়েল উঠানে টিক টিক করে হাটে আর মানুষের চলার টের পেলে হঠাৎ উড়ে যায়। দোয়েলকে সারা বছরই দেখা যায়। এটি আমাদের সবচেয়ে পরিচিত পাখি।

উপসংহার: চিরন্তন ফুল পাখির দেশ বাংলাদেশের পাখিকূলের মধ্যে দোয়েল একটি বিশিষ্ট নাম। গানের পাখি হিসেবে এটি বাংলাদেশের কবি সাহিত্যিকদের নিকট অতি প্রিয়। এটিকে আমাদের পাশে পাশে সর্বদা দেখতে পাওয়া যায় বলে আমাদের আপনজনও বটে। বিভিন্ন দিক থেকে দোয়েল আকর্ষণীয় বলেই দোয়েলকে যথার্থই বাংলাদেশের জাতীয় পাখির মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় পাখি দোয়েল রচনা ২৫ পয়েন্ট

ভূমিকা: কোকিল ডাকে কুহু কুহু, দোয়েল ডাকে মুহু মুহু, নদী যেথায় ছুটে চলে আপন ঠিকানায়, একবার যেতে দে-না আমার ছোট্ট সোনার গাঁয়। বাংলাদেশের অসংখ্য রূপ-রং কণ্ঠের পাখির সমারোহে সমৃদ্ধ। যে-পাখির গান আর ডালে ডালে নেচে বেড়ানো দেখে মনে চঞ্চলতা জাগে তার নাম দোয়েল। বাংলার অতি পরিচিত এক পাখি। দোয়েল বাংলাদেশে গানের পাখি হিসেবেও স্বীকৃত।

দোয়েল পাখির আকৃতি: আকৃতির দিক থেকে দোয়েল পাখি ছোট একটি পাখি। দোয়েল পাখি সাধারণত ৫-৬ ইঞ্চি লম্বা হয়। স্ত্রী ও পুরুষ দোয়েল রং, আকার ও চেহারায় পৃথক হয়। পুরুষ দোয়েলের মাথা, ঘাড়, গলা, বুক ও পিঠের পালক চকচকে নীলাভ কালো। নিচের বাকি অংশের পালক সাদা। এদের ডানা কালচে বাদামি রঙের, তার মাঝে পিঠঘেঁষে সাদা ছোপ আর টানা দাগ। লেজ লম্বা, সরু থেকে মোটা। লেজে মাঝের দুটো পালক কালো, বাকি অংশ সাদা, এদের চোখ ও ঠোঁট কালো এবং পা গাঢ় সিসা রঙের। স্ত্রী দোয়েলের রং অনেকটা বাদামি ও ধূসর, দেখতে ময়লা বালির মতো। দোয়েল সবসময় তার লেজ উচু করে রাখে।

আরো পড়ুন: জাতীয় ফল কাঁঠাল রচনা

খাদ্যও বাসস্থান: পোকামাকড় দোয়েলের প্রধান খাদ্য। আকারে ছোট বলে এদের তেমন বেশি খাদ্যের প্রয়োজন হয় না। দোয়েল শস্যকণা খেয়ে থাকে। এদের শিমুল ও মাদার ফুলের মধু খেতেও দেখা যায়। দোয়েল ঝোপজাড়ে একাকী বা জোড়াসহ বাসা বেঁধে বাস করে। মানুষের বসতের কাছাকাছি দেয়াল কিংবা গাছের গুঁড়িতেও বাসা বাঁধে। দোয়ের গাছের ডালে বাসা বাঁধতে পারে না। এরা খড়-কুটো বা শুকনো ঘাস জমা করে বাসা তৈরি করে।

প্রকৃতি: দোয়েল চঞ্চল এবং অস্থির প্রকৃতির পাখি। নাচের ঢঙে এরা লাফিয়ে চলে। মাটি থেকে দশ ফুট উচ্চতার ভেতরে এরা অল্প দূরত্বে উড়ে চলে। এদের দীর্ঘক্ষণ শূন্যে ভাসতে দেখা যায় না।

বিশেষত্ব: দোয়েলের বিশেষত্ব এর মোহন সুরে ও সংগীতে। আকর্ষণীয় এই আদুরে পাখি সুন্দর সুরে গান করে এবং আস্তে আস্তে শিস দেয় বস্তকালে এদের নাচ ও গানে মনে ভরে ওঠে। কোকিল সবচেয়ে পরিচিত তবে অতিথি গানের পাখি। আর এরা আমাদের একান্তই প্রকৃতির গানের পাখি। সারাদিন, এমনকি সন্ধ্যার পরেও দোয়েল গান গায়।

কেন দোয়েল জাতীয় পাখি: বাংলার প্রকৃতির সঙ্গে দোয়েলের রূপ, রং, স্বভাব, গান মিশে আছে। দোয়েল তার সহজাত চঞ্চলতায় গাছের ডালে বসে যখন গান করে ও শিস দেয়, তখন বাঙালি বাংলার অপার সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারে। বাংলার সুজলা-সুফলা-শস্য-শ্যামলা প্রকৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে বলেই দোয়েল আমাদের জাতীয় পাখি।

উপসংহার: বাংলাদেশের সর্বত্র দোয়েল পাখি দেখা যায়। প্রকৃতির প্রতিকূলতা, তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে জীববৈচিত্র যে ক্ষতি হচ্ছে, তাতে এ-পাখিও রেহাই পাচ্ছে না। দোয়েল তথা সব পাখির জন্ম, বৃদ্ধি ও বিকাশ নিশ্চিত করাই আমাদের দায়িত্ব।

জাতীয় পাখি দোয়েল রচনা ৩০ পয়েন্ট

ভূমিকা: প্রকৃতির সৌন্দর্যের নীলাভূমি আমাদের এই বাংলাদেশ। এই দেশের মাঠ-ঘাট, নদী-নালা, গাছপালা ও নানা রকম পশুপাখি, ফুল, ফল প্রকৃতিকে করেছে বৈচিত্রময়। বাংলাদেশের জাতীয় ফুল হলো শাপলা, জাতীয় ফল হলো কাঁঠাল, জাতীয় গাছ হলো আমগাছ তেমনি জাতীয় পাখি হলো দোয়েল। দোয়েল পাখি আকারে ছোট হলেও এর মনোমুগ্ধকর ডাক আমাদের মনকে আনন্দে ভরিয়ে দেয়।

দোয়েলের পরিচয়: দোয়েল বাংলাদেশের একটি অতি পরিচিত পাখি। এটি আমাদের গ্রামবাংলার প্রকৃতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। ভোরের আলো ফুটতেই দোয়েলের মিষ্টি ডাক শোনা যায়। শহর ও গ্রাম উভয় জায়গাতেই দোয়েল পাখি দেখা যায়। এর সুন্দর চেহারা ও সুরেলা কণ্ঠের জন্য এটি সবার কাছে প্রিয়।

আরো পড়ুন: আমাদের বিদ্যালয় রচনা

দোয়েলের বৈজ্ঞানিক নাম: দোয়েলের বৈজ্ঞানিক নাম Copsychus saularis। ইংরেজিতে একে Oriental Magpie-Robin বলা হয়। এটি মূলত গায়ক পাখিদের অন্তর্ভুক্ত। দোয়েলের সুমধুর ডাক বাংলাদেশের প্রকৃতির অন্যতম আকর্ষণ।

দোয়েল পাখির গুরুত্ব: প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় দোয়েল পাখির গুরুত্ব অপরিসীম। এটি প্রকৃতির সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। একটি দেশের জাতীয় পাখি সেই দেশের প্রকৃতি ও সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্ব করে। তাই দোয়েল আমাদের কাছে অত্যন্ত মূল্যবান।

দোয়েল পাখির প্রতি হুমকি: দিন দিন গাছপালা কাটা, বন উজাড় এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দোয়েল পাখির আবাসস্থল নষ্ট হচ্ছে প্রতিনিয়ত। মানুষের অসচেতনতার কারণেও দোয়েল পাখির আবাসস্থল নষ্ট হচ্ছে। যার ফলে দোয়েল পাখির জন্য প্রকৃতিতে টিকে থাকা হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা: দোয়েলকে রক্ষা করতে হলে আমাদের পরিবেশ সংরক্ষণ করতে হবে। বেশি বেশি গাছ লাগাতে হবে এবং অপ্রয়োজনে গাছ কাটা বন্ধ করতে হবে। পাখির বাসা নষ্ট করা ও তাদের শিকার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। মানুষের মধ্যে পাখি ও প্রকৃতি সংরক্ষণের বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করতে হবে।

উপসংহার: পরিশেষে বলা যায় যে, দোয়েল আমাদের জাতীয় পাখি। দোয়েলের মধুর ডাক ও সুন্দর উপস্থিতিতে আমাদের বাংলাদেশ আরও সুন্দর হয়ে উঠুক-এটাই আমাদের কামনা।